প্রবাসীদের দূর থেকে জমি কেনার নিরাপদ নিয়ম
বিদেশে থেকে দেশে জমি কেনা সম্ভব, কিন্তু দূরত্বের কারণে প্রতারণার ঝুঁকিও বেশি। নিচের ধাপগুলো মেনে চললে ঝুঁকি অনেক কমে।
১. একজন বিশ্বস্ত প্রতিনিধি ও আইনজীবী ঠিক করুন
শুধু বিক্রেতা বা দালালের কথায় ভরসা না করে স্বাধীন একজন আইনজীবী নিয়োগ করুন। তিনি দলিল, খতিয়ান ও দখল যাচাই করবেন। পরিবারের সদস্য প্রতিনিধি হলেও কাগজ যাচাইয়ের কাজটি পেশাদার কাউকে দিয়ে করানো ভালো। যাচাইয়ের বিস্তারিত তালিকা আছে জমি কেনার আগে ৫টি সতর্কতা গাইডে।
২. পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেওয়ার সময় সতর্ক থাকুন
- বিদেশে সম্পাদিত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সাধারণত বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশন দ্বারা সত্যায়ন করাতে হয়। নির্দিষ্ট নিয়ম আপনার দেশের দূতাবাস ও আইনজীবীর কাছে যাচাই করুন।
- ক্ষমতা সুনির্দিষ্ট রাখুন: কোন জমি, কোন কাজ এবং সর্বোচ্চ কত মূল্য পর্যন্ত। সাধারণ বা অনির্দিষ্ট ক্ষমতা এড়িয়ে চলুন।
- কাজ শেষ হলে বা সন্দেহ হলে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বাতিল করার নিয়ম আগেই জেনে রাখুন।
৩. অর্থ পরিশোধ হবে ব্যাংকের মাধ্যমে
বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠান এবং সম্ভব হলে সরাসরি বিক্রেতার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পরিশোধ করুন। নগদ লেনদেন এড়ান। প্রতিটি পাঠানোর রসিদ ও যোগাযোগ সংরক্ষণ করুন। চূড়ান্ত অর্থ দলিল সম্পাদনের দিন দিন; আগেভাগে পুরো টাকা দেবেন না। খরচের আগাম হিসাব দেখুন রেজিস্ট্রি খরচ ক্যালকুলেটরে।
৪. রেজিস্ট্রি, নামজারি ও খাজনা
রেজিস্ট্রির দিন আপনি নিজে উপস্থিত থাকলে সবচেয়ে নিরাপদ। না পারলে বৈধ প্রতিনিধি থাকবেন। দলিল হাতে পেয়ে দ্রুত নামজারি করান এবং প্রতিবছর অনলাইনে খাজনা দিন। এতে জমি আপনার নামে সরকারি রেকর্ডে থাকে।
লাল পতাকা: এগুলো দেখলে থামুন
- "আজই টাকা না দিলে অন্য ক্রেতা নিয়ে যাবে" ধরনের তাড়া।
- এলাকার তুলনায় অস্বাভাবিক কম দাম।
- বিক্রেতা ভিডিও কল, জমি দেখানো বা মূল কাগজ দেখাতে অনিচ্ছুক।
- একজন মধ্যস্থই সবকিছু করছেন, অন্য কারও সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে দিচ্ছেন না।
- বিক্রেতার নাম খতিয়ান বা পরিচয়পত্রের নামের সঙ্গে মিলছে না।
মনে রাখুন: এটি সাধারণ তথ্য, আইনি পরামর্শ নয়। পাওয়ার অব অ্যাটর্নি ও অর্থ পাঠানোর নিয়ম সময়ে সময়ে বদলায়, তাই কাজ শুরুর আগে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে নিন।