নিজে জমির ক্ষেত্রফল মাপার নিয়ম: আয়তক্ষেত্র, ত্রিভুজ ও অনিয়মিত প্লটের হিসাব
জমি কেনার আগে প্লটের আনুমানিক মাপ নিজে জেনে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। এতে দলিলে লেখা পরিমাণের সঙ্গে বাস্তবের বড় অমিল সহজে ধরা পড়ে। এখানে ফুটে মাপ নিয়ে বর্গফুট বের করে কাঠা ও শতকে রূপান্তরের নিয়ম দেওয়া হলো।
মাপার আগে যা লাগবে
- ১০০ ফুটের মাপার ফিতা এবং কয়েকটি খুঁটি বা পাথর।
- দুজন সহযোগী, যাতে ফিতা টানটান থাকে।
- প্রতিটি দূরত্ব দুবার মাপা, দুবারের মান মিললে তবেই লেখা।
ঢালু জমিতে ফিতা সমান্তরালে ধরে মাপুন, নইলে মাপ বেশি আসে।
১. আয়তক্ষেত্রাকার প্লট
ক্ষেত্রফল = দৈর্ঘ্য × প্রস্থ। উদাহরণ: ৪৫ ফুট × ৩২ ফুট = ১,৪৪০ বর্গফুট। ৭২০ দিয়ে ভাগ করলে ২ কাঠা, আর ৪৩৫.৬ দিয়ে ভাগ করলে প্রায় ৩.৩১ শতক।
২. ত্রিভুজাকার প্লট
ক্ষেত্রফল = ভূমি × উচ্চতা ÷ ২। উদাহরণ: ভূমি ৬০ ফুট, উচ্চতা ৩৬ ফুট হলে ক্ষেত্রফল ৬০ × ৩৬ ÷ ২ = ১,০৮০ বর্গফুট, অর্থাৎ ১.৫ কাঠা বা প্রায় ২.৪৮ শতক। উচ্চতা নিতে হবে ভূমির সঙ্গে ৯০ ডিগ্রি কোণে।
উচ্চতা মাপা কঠিন হলে তিন বাহুর দৈর্ঘ্য দিয়েও ক্ষেত্রফল পাওয়া যায়। বাহু a, b, c হলে s = (a + b + c) ÷ ২ এবং ক্ষেত্রফল = √(s × (s−a) × (s−b) × (s−c))। উদাহরণ: ৩০, ৪০ ও ৫০ ফুটের বাহু হলে s = ৬০, আর ক্ষেত্রফল = √(৬০ × ৩০ × ২০ × ১০) = ৬০০ বর্গফুট।
৩. ট্রাপিজিয়াম (দুই বাহু সমান্তরাল)
ক্ষেত্রফল = (সমান্তরাল দুই বাহুর যোগফল ÷ ২) × উচ্চতা। উদাহরণ: সমান্তরাল বাহু ৫০ ও ৪০ ফুট, উচ্চতা ৩০ ফুট হলে ক্ষেত্রফল (৫০ + ৪০) ÷ ২ × ৩০ = ১,৩৫০ বর্গফুট, যা ১.৮৭৫ কাঠা বা প্রায় ৩.১০ শতক।
৪. অনিয়মিত প্লট
প্লটটিকে কয়েকটি ত্রিভুজে ভাগ করুন। একটি কোণা থেকে বিপরীত কোণায় কর্ণ মাপলে চতুর্ভুজ দুটি ত্রিভুজ হয়ে যায়। প্রতিটি ত্রিভুজের ক্ষেত্রফল আলাদা করে বের করে যোগ করলেই মোট ক্ষেত্রফল পাওয়া যায়।
বর্গফুট থেকে কাঠা ও শতক
- কাঠা = বর্গফুট ÷ ৭২০
- শতক = বর্গফুট ÷ ৪৩৫.৬
- বিঘা = বর্গফুট ÷ ১৪,৪০০
হিসাব সরাসরি মেলাতে জমি পরিমাপ ক্যালকুলেটরে বর্গফুট লিখলে বাকি সব এককে একসঙ্গে দেখা যায়।
সতর্কতা: নিজে মাপা আনুমানিক হিসাব, আইনি সীমানা নয়। দলিল বা রেজিস্ট্রির আগে লাইসেন্সপ্রাপ্ত আমিন বা সার্ভেয়ার দিয়ে মাপিয়ে নিন। ম্যাপ ও দাগ নম্বর মেলানোর নিয়ম দেখুন মৌজা ম্যাপ পড়ার গাইডে।