দলিল আসল কি না কীভাবে যাচাই করবেন: জাল দলিল চেনার উপায়
জাল বা ত্রুটিপূর্ণ দলিল জমি কেনার সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলোর একটি। বিক্রেতার দেখানো কাগজ দেখতে ঠিকঠাক লাগলেও তা আসল কি না নিশ্চিত হওয়ার কয়েকটি নির্ভরযোগ্য উপায় আছে।
যাচাইয়ের ধাপ
- সার্টিফাইড কপি মিলিয়ে দেখুন: দলিলের নম্বর, সাল ও রেজিস্ট্রি অফিসের নাম টুকে নিয়ে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে সার্টিফাইড কপি তুলুন এবং বিক্রেতার দেখানো কপির সঙ্গে শব্দে শব্দে মেলান। এটিই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
- রেজিস্ট্রির চিহ্ন দেখুন: অফিসের সিল, রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষর এবং সাধারণত বহি ও জিল্দ নম্বর, পৃষ্ঠা নম্বরের উল্লেখ আছে কি না দেখুন।
- স্ট্যাম্প ও ফি যাচাই করুন: স্ট্যাম্পের মূল্য ও চালান বা ফি পরিশোধের রসিদ দলিলের মূল্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ কি না দেখুন।
- পক্ষদের পরিচয় মেলান: দলিলে বিক্রেতার নাম, পিতার নাম ও ঠিকানা জাতীয় পরিচয়পত্র এবং খতিয়ানের সঙ্গে মিলছে কি না দেখুন।
- জমির বিবরণ মেলান: মৌজা, দাগ নম্বর, পরিমাণ ও চৌহদ্দি খতিয়ান ও ম্যাপের সঙ্গে মেলান। দেখুন মৌজা ম্যাপ পড়ার গাইড।
- ধারাবাহিকতা দেখুন: আগের মালিকদের বায়া দলিল পর্যন্ত ধারাবাহিক প্রমাণ আছে কি না যাচাই করুন। পূর্ণ তালিকা আছে জমি কেনার আগে ৫টি সতর্কতা গাইডে।
জাল দলিলের সাধারণ লক্ষণ
- বিক্রেতা শুধু ফটোকপি দেখান এবং মূল বা সার্টিফাইড কপি দেখাতে চান না।
- পৃষ্ঠার মাঝে কালি, হাতের লেখা বা ছাপার ধরন হঠাৎ বদলে যাওয়া।
- তারিখ, নম্বর বা নামের বানানে অসংগতি।
- সিল বা স্বাক্ষর অস্পষ্ট, ঘষামাজা করা বা অন্য পৃষ্ঠার সঙ্গে না মেলা।
- "আজই টাকা দিন" ধরনের তাড়া এবং রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে যাচাই করতে বাধা দেওয়া।
সন্দেহ হলে কী করবেন
সরাসরি বিক্রেতাকে অভিযুক্ত করে বিবাদে জড়াবেন না। টাকা পরিশোধ বন্ধ রাখুন, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে রেকর্ড নিশ্চিত করুন এবং একজন আইনজীবীর পরামর্শে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করুন। যাচাইয়ের সময় প্রতিটি যোগাযোগ ও রসিদ সংরক্ষণ করুন।
মনে রাখুন: কোনো একক যাচাই শতভাগ নিশ্চয়তা দেয় না। একাধিক ধাপ মিলিয়ে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের রেকর্ডকেই চূড়ান্ত তুলনার ভিত্তি ধরুন। এই লেখা সাধারণ তথ্য, আইনি পরামর্শ নয়।